সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি উগ্র ও হিংস্র কুকুরের আকস্মিক কামড়ে এক শিশুসহ মোট সাতজন সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। শুধু মানুষই নয়, ক্ষিপ্ত ওই কুকুরটির হামলায় দুটি গরু ও চারটি ছাগলও জখম হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন মিলে কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) সকালে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামাল, দেওডোবা এবং মনিরাম—এই তিনটি গ্রামে পর্যায়ক্রমে এসব অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জামাল গ্রামের আব্দুল হান্নান (৫০), তোফাজ্জল হোসেন (৭০) ও ছবির মিয়া (৫৫); দেওডোবা গ্রামের শিশু সোহাগ মিয়া (৪) ও আতোয়ার রহমান (৫০); এবং মনিরাম গ্রামের জহুরুল ইসলাম (২৫) ও রুবেল মিয়া (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে জামাল গ্রামে প্রবেশ করে কুকুরটি অতর্কিতভাবে লোকজনকে কামড়াতে শুরু করে। এরপর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এটি মনিরাম গ্রামের গাজীর মোড় এলাকায় গিয়ে আরও তিনজনকে জখম করে।
আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের গভীর ক্ষত রয়েছে। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিরেবিস ভ্যাকসিন প্রদান করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানুষের পাশাপাশি কুকুরটি গবাদিপশুর ওপরও চড়াও হয় এবং দুটি গরু ও চারটি ছাগলকে কামড়ায়। এলাকায় কুকুরটি নির্বিচারে ঘুরে বেড়ানোয় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে সেটিকে মেরে ফেলেন।
এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল জব্বার জানান, কুকুরের কামড়ে শিশুসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি এবং ঘটনাস্থলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান বলেন, কুকুরের কামড়ে জখম হয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়েছে।