সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় লোকালয়ে ঢুকে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে কামড়ে আহত করা সেই শিয়ালটির মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাণীটির শরীরে জলাতঙ্কের সংক্রমণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে এই নমুনা পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শিয়ালের মাথা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত রোববার বিকেলে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা ও জিগাবাড়ী এলাকায় একটি ক্ষিপ্ত শিয়াল হঠাৎ লোকালয়ে প্রবেশ করে। এ সময় পথচারী ও বাড়িঘরের আশপাশে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে উপর্যুপরি কামড়ে আহত করে এটি।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—তালুক বেলকা গ্রামের নিলি বেগম (৪০), সাদেক হোসেন (৭০), আফরুজা বেগম (৩৭) ও শাওন মিয়া (৬), এবং জিগাবাড়ী গ্রামের রাবেয়া বেগম (৩৮), তার ছেলে রাকিবুল হাসান (১৩), এনামুল হক (২৬), আয়শা আক্তার (৩) ও হাসান মিয়া (৭)।
ঘটনার পর স্থানীয়রা শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রাখেন। খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিয়ালটির মাথা সংগ্রহ করেন এবং বাকি অংশ নিরাপদে মাটিতে পুঁতে ফেলেন।
আহত সবাইকে ইতোমধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসকের দলও পরবর্তীতে তাদের বাড়িতে গিয়ে শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেয়। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে; যার মধ্যে নিলি বেগমকে সাড়ে ৭ হাজার এবং বাকি ৮ জনকে ৪ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।
নমুনা সংগ্রহকারী ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় শিয়ালটিকে চিহ্নিত করে এর মাথা সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত সবাই আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন এবং তাদের শারীরিক কোনো জটিলতা নেই।