মোঃ মাসুদ রানা মনি, রামগঞ্জ লক্ষ্মীপুর।
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে প্রশাসনের নিরব ভূমিকার সুযোগ নিয়ে সরকারি খাস জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রামগঞ্জ পৌরসভার আঙ্গারপাড়া এলাকায় সরকারি খাস দিঘির পাড় দখল করে এই ইমারত তৈরি করছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভার আঙ্গারপাড়া এলাকার সরকারি খাস দিঘির দক্ষিণ পাড়েই উপজেলা ভূমি অফিস অবস্থিত। এছাড়া দিঘির উত্তর পাড় থেকে বীরেন্দ্র খাল পর্যন্ত পানি চলাচলের নির্দিষ্ট নিষ্কাশন পথ রয়েছে। যুগ যুগ ধরে এই পথ দিয়েই দিঘির পানি বীরেন্দ্র খালে প্রবাহিত হয়ে আসছে।
অভিযোগ উঠেছে, আঙ্গারপাড়া এলাকার মো. মন্টু মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল রানা এই খাস জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। স্থানীয়রা নির্মাণকাজে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত জুয়েল তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে সরকারি সম্পত্তি দখলের বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত জুয়েল রানা জানান, তিনি সামান্য কিছু সরকারি জায়গা দখল করে তার পাশেই বাড়ি নির্মাণ করছেন। তার দাবি, অন্যরাও যেহেতু সরকারি সম্পত্তি দখল করেছে, তাই তিনিও একই কাজ করেছেন। ভূমি অফিসের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাকে অফিসে যাওয়ার বললেও তিনি যাননি বলে জানান। তবে সরকারি সম্পত্তি মেপে নির্ধারণ করা হলে তার কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ পৌরসভার তহশিলদার মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, সরকারি সম্পত্তি পরিমাপ ও চিহ্নিত করতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ইতোমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করার কোনো সুযোগ নেই। দিঘির এক প্রান্তে ভূমি অফিস আর অন্য প্রান্তে সরকারি জমি বেদখল হবে—এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তবে সেখানে ঠিক কতটুকু সরকারি সম্পত্তি রয়েছে, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে সরকারি জমির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ভূমি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।