নিজস্ব প্রতিবেদক শেখ মোঃ কামরুজ্জামান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তাজু ভাই’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির কথাবার্তা ও বাচনভঙ্গি নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা ও ট্রল চলছে। তাঁর গ্রাম্য ও সহজ-সরল উপস্থাপনা নিয়ে কেউ কেউ হাসাহাসি করলেও, তাঁর বক্তব্যের বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন চিত্র সামনে এসেছে।
তাজু ভাইয়ের বক্তব্যে উঠে আসে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নানা সমস্যা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই, যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল এবং সাধারণ মানুষ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত—সেসব মানুষের দাবি ও প্রত্যাশার কথা তিনি তুলে ধরছেন।
তাঁর বক্তব্যের ধরন হয়তো শহুরে, প্রাতিষ্ঠানিক সাংবাদিকতার প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে মেলে না। কিন্তু একজন মানুষের সামাজিক অবস্থান, শিক্ষাগত সীমাবদ্ধতা কিংবা আঞ্চলিক বাচনভঙ্গি দিয়ে তাঁর চিন্তা ও জনসম্পৃক্ততাকে মূল্যায়ন করা কতটা যুক্তিসঙ্গত—এ প্রশ্নও উঠছে।
সমালোচকদের একটি অংশ তাঁর উপস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাঁর অনুসারীরা বলছেন, তাজু ভাইয়ের মূল শক্তি তাঁর সরলতা এবং নিজের এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। তিনি যে বিষয়গুলো সামনে আনছেন, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বাস্তব সমস্যা—ভালো রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার দাবি।
সমাজের প্রান্তিক মানুষের কথা বলার জন্য সবসময় উচ্চশিক্ষিত বা শহুরে ভাষায় কথা বলা ব্যক্তির প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় একজন সাধারণ মানুষই তাঁর নিজের এলাকার বাস্তব সমস্যাগুলো সবচেয়ে কাছ থেকে তুলে ধরতে পারেন। সেই জায়গা থেকে তাজু ভাইয়ের কর্মকাণ্ডকে নতুন করে মূল্যায়নের দাবি উঠছে।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি অনেকের পেশা ও পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে তাজু ভাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর সমর্থকদের দাবি, তিনি শুধু বিনোদনের জন্য কনটেন্ট তৈরি করছেন না; বরং নিজের শিকড়ের মানুষের সমস্যা সামনে আনার চেষ্টা করছেন।
একটি প্রজন্ম যেন নিজ জন্মভূমিতে ভালো রাস্তা, মানসম্মত শিক্ষা এবং উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ পায়—এমন প্রত্যাশাই তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে বলে তাঁর অনুসারীরা মনে করেন।
তবে জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহারের গুরুত্বও রয়েছে। গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—যে মাধ্যমেই জনস্বার্থের কথা বলা হোক না কেন, সত্যতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
তাই বাচনভঙ্গি বা আঞ্চলিক পরিচয় নিয়ে হাসাহাসির পরিবর্তে একজন মানুষের বক্তব্যের ভেতরে থাকা জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে।
তাজু ভাই হয়তো প্রচলিত অর্থে শহুরে সাংবাদিকতার ভাষায় কথা বলেন না। কিন্তু পিছিয়ে থাকা মানুষের কথা তুলে ধরার যে চেষ্টা তিনি করছেন, সেটি যদি সত্য, তথ্যনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী হয়, তাহলে সেই প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
কারণ মানুষের কণ্ঠের মূল্য তার উচ্চারণে নয়—তার কথার ভেতরে থাকা সত্য ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায়।