বাংলাদেশে সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগুরু বলে আলাদা কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরী। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জন্মাষ্টমী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি সীতাকুণ্ডসহ সারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি, বর্তমান রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় প্রতিটি নাগরিক যেন সমানাধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন যে, বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ও অনন্য নজির স্থাপন করে আসছে। এই ভূখণ্ডের বাসিন্দারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং অটুট ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন। দেশবাসীর মধ্যে এই সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করা গেলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ একটি অনুকরণীয় ও আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাই যেকোনো ধরনের বিভাজন ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড অঞ্চলের ভৌগোলিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে আসলাম চৌধুরী জানান যে, এখানে অবস্থিত ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ ধাম কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের কাছেও অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান। এই অঞ্চলটিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও আধুনিক করে তুলতে সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এই এলাকাটিকে একটি আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র এবং সম্ভাবনাময় শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি সমবেত অতিথিদের জানান।
জন্মাষ্টমীর পবিত্র এই দিনে দেশ থেকে সব ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ এবং সামাজিক বিভেদ চিরতরে দূর হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, মানুষের মন থেকে সব নেতিবাচকতা মুছে ফেলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি ধর্মের মানুষ যাতে কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়া সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে নিজেদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সীতাকুণ্ড উপজেলা শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি রতন কুমার নাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সুনন্দ ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের অধ্যক্ষসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক চমৎকার পরিবেশের সৃষ্টি হয়।