রাজধানীর ডেমরা থানার কামারগোপ এলাকা থেকে দেলোয়ার হোসেন দেলু নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি কামারগোপ এলাকার একটি জমির ভেতর থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে দেয়। পেশায় অটোরিকশাচালক ওই ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দেলোয়ার হোসেনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে যে, কোনো দুষ্কৃতকারী ইট কিংবা লাঠির মতো ভারী কোনো বস্তু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। তবে মৃত্যুর আসল কারণ ও ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটন করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।
নিহত দেলোয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। নিহতের মেয়ে লামিয়া গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনার আগের রাতে স্থানীয় রনি নামের এক যুবক মোবাইল ফোনে কল করে তার বাবাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে পারেননি শোকার্ত ওই তরুণী।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত রনিকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, আটককৃত রনি একজন মাদক কারবারি এবং তিনি নিজেও মাদকাসক্ত। ঘটনার সঙ্গে মাদক বা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ডেমরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।