দেশের সকল সরকারি হাসপাতালকে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি, যা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালের হয়রানি সাধারণ রোগীদের জন্য একটি বড় দুর্ভোগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতি থেকে রোগীদের মুক্তি দিতে মন্ত্রী মহোদয় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন যে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে দালালদের সক্রিয় ভূমিকার কারণে প্রকৃত রোগীরা প্রায়ই প্রতারণার শিকার হন এবং দালালদের মাধ্যমে বেসরকারি ক্লিনিকে চলে যেতে বাধ্য হন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই নতুন ঘোষণার ফলে প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষ সহজেই সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সেবা নিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রী মহোদয় হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসছেন। তার এই কঠোর বার্তার পর মাঠপর্যায়ের হাসপাতাল প্রশাসনগুলো নড়েচড়ে বসেছে এবং দালাদের দমনে বিভিন্ন কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার কথাও ভাবা হচ্ছে। কোনোভাবেই হাসপাতাল চত্বরে দালালদের বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র ঘোষণা দিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি এবং প্রশাসনের কঠোর সদিচ্ছা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি হুঁশিয়ারি সংশ্লিষ্ট মহলে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার করেছে, যা দালাল চক্রের কার্যক্রমকে অনেকাংশেই সংকুচিত করবে। অচিরেই দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে একটি সুশৃঙ্খল ও দালালমুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে সর্বসাধারণের প্রত্যাশা।