ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া ১১ দলের চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের সার্বিক কর্মসূচি ও রুট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী শনিবার সকালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে একটি উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লংমার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এই ঐতিহাসিক যাত্রাকে সফল করতে এবং পথিমধ্যে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে জোটের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই লংমার্চে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেবে।
যাত্রা শুরুর পর রাজধানীর পার্শ্ববর্তী ও মহাসড়ক সংলগ্ন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী লংমার্চের প্রথম পথসভাটি অনুষ্ঠিত হবে নারায়ণগঞ্জের ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায়। এরপর গাড়ি বহরটি কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোডে আরেকটি পথসভায় অংশ নেবে। পরবর্তীতে ফেনীর মহিপাল এবং চট্টগ্রাম প্রবেশের মুখে আরও কয়েকটি সংক্ষিপ্ত পথসভা করার সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি রয়েছে। স্থানীয় ১১ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরাই স্ব স্ব এলাকার এসব পথসভার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জনসমাগম নিশ্চিত করবেন।
দীর্ঘ এই যাত্রায় সময় বাঁচানোর জন্য বক্তৃতার ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। প্রতিটি পথসভায় জোটের সব নেতার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। বরং একটি নির্দিষ্ট পথসভা চলাকালীন সময়ে অগ্রবর্তী একটি দল পরবর্তী পথসভাস্থলে আগে গিয়ে বক্তব্য দেবেন এবং মূল বহর পৌঁছানোর আগেই আবার রওনা হবেন। এর ফলে পুরো গাড়িবহরের যাত্রার গতি নিরবচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব হবে এবং অযথা সময় অপচয় রোধ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যাত্রাপথে শৃঙ্খলার বিষয়টি অত্যন্ত কঠোরভাবে তদারকি করা হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। লংমার্চে অংশগ্রহণকারী সাধারণ নেতাকর্মীরা সম্পূর্ণ সময় গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করবেন এবং তাদের গাড়ি থেকে নামার প্রয়োজন হবে না। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট বক্তারা গাড়ি থেকে নেমে মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন এবং শেষ হওয়ার পর দ্রুত নিজ নিজ গাড়িতে ফিরে যাবেন। এছাড়া যাত্রাপথে নতুন কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হতে চাইলে তাদের মাঝখানে না ঢুকে শেষ প্রান্তে সংযোজিত হতে হবে। কোনো ধরনের বড় ধরনের যানজট বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা না দিলে সন্ধ্যার মধ্যে গাড়িবহর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছাবে এবং সেখানে এক বিশাল সমাপনী জনসভার মাধ্যমে লংমার্চের সমাপ্তি ঘটবে।