শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরে প্রায় ১৪ কোটি টাকার সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় ১৪ জন সার ডিলারসহ ১৫ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জহিরুল কবির এই আদেশ দেন।
আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৪ জুন শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহানের নেতৃত্বে একটি দল শহরের বিভিন্ন গুদাম ও সারের দোকানে আকস্মিক পরিদর্শন চালায়। এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬-এর বিধান লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে উঠে আসে যে, অধিক মুনাফার লোভে অভিযুক্ত ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের ৪ হাজার ৪১২ টন ইউরিয়া, ৮২১ টন ডিএপি, ১৩৪ টন টিএসপিসহ প্রায় ১৪ কোটি মূল্যের সার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে না দিয়ে অবৈধভাবে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
এই অনিয়মের ঘটনায় গত ২২ জুলাই সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৫ জন ডিলারসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এর আগে আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে তাদের মধ্যে ১৫ জন নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে নতুন করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আসামি মোহাম্মদ ইলিয়াস আলীর জামিনের মেয়াদ বহাল রাখলেও বাকি ১৪ জনের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ডিলার ও আসামিরা হলেন— সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মরিয়ম আক্তার মুন্নি, তাপস নন্দী, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আব্দুল মান্নান জানান, উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং শর্ত সঠিকভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নাকচ করে জেলহাজতে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন।