সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর
প্রখ্যাত খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের জনপ্রিয় এনার্জি ড্রিংকস ‘স্পিড’ পান করে দুই কিশোরীসহ তিনজন গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন। বিষাক্ত বা ভেজাল এই পানীয় গ্রহণের ফলে তাদের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসে। বর্তমানে তারা শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অসুস্থ ভুক্তভোগীরা হলেন— শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে জেবিন (১৭), একই এলাকার শফিকুল ইসলামের মেয়ে স্বর্ণা (১৪) এবং পার্শ্ববর্তী চর সাপমারী গ্রামের চান মাহমুদের ছেলে ওসমান আলী (৫০)।
বোতলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের গন্ধ
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয় ইমামবাড়ী বাজারের একটি দোকান থেকে আকিজ বেভারেজের ‘স্পিড’ এর ওই বোতলটি কেনা হয়। ওসমান আলী কিছু অংশ পান করার পর বোতলটি প্রতিবেশী দুই বোন জেবিন ও স্বর্ণার হাতে দেন। পান করার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
জেবিন ও স্বর্ণার তীব্র মাথা ব্যথার পাশাপাশি চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করে এবং তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একই সময়ে ওসমান আলীর শারীরিক অবস্থাও খারাপ হতে থাকে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসএসসি পরীক্ষার্থী জেবিন বলেন, “আমি নিয়মিতই স্পিড পান করি। কিন্তু আকিজ গ্রুপের এই বোতলের পানীয় খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হয় এবং দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসে।” জেবিনের বাবা জানান, এই ঘটনার পর থেকে মেয়েটি সোজা হয়ে বসতেও পারছে না এবং চোখে ঝাপসা দেখছে।
খাদ্যের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ
ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, ওই কোমল পানীয়র বোতল খোলার পর থেকেই তীব্র কেমিক্যাল বা নেশাজাতীয় পদার্থের দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের পণ্যে কীভাবে এ ধরনের বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি মিলল, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনন্যা দত্ত জানান, অসুস্থদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।
একই বোতলের পানীয় খেয়ে তিন ব্যক্তির একসঙ্গে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পেছনে কোম্পানির মান নিয়ন্ত্রণ বা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কঠোর তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।