ইমাম হাছাইন পিন্টু নাটোর
নাটোরের লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবলসংকটের কারণে প্রতিদিন দুপুরের পর ল্যাবরেটরির নমুনা সংগ্রহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। এতে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা। বাধ্য হয়ে অনেককে চড়া মূল্যে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর শরণাপন্ন হতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, কাগজে-কলমে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের তিনটি পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। পদায়নকৃত টেকনোলজিস্ট আতিকুর রহমান বর্তমানে প্রেষণে জয়পুরহাট ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাঁর বেতন-ভাতা লালপুর হাসপাতাল থেকেই পরিশোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিদিন এই হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁদের একটি বড় অংশের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয়। কিন্তু মাত্র দুজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে সকালের অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলানো সম্ভব হয় না। ফলে দুপুর ১২টার পর নতুন কোনো রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা যায় না। এর ফলে একই দিনে পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না পাওয়ায় রোগীদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহလের সুপারিশে আতিকুর রহমান প্রেষণে বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি প্রেষণে থাকায় লালপুরের পদটি শূন্য হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না, ফলে নতুন কোনো জনবলও নিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান জানান, ল্যাবের কাজের চাপ সামলাতে টেকনোলজিস্টরা হিমশিম খাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তা প্রেষণে থাকায় নতুন কাউকে পদায়ন করা যাচ্ছে না এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জনবল সংকট সমাধান ও পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো না গেলে রোগীদের এই দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।