মোঃ ওমর ফারুক হৃদয়, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি।
বান্দরবানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠপর্যায়ে তদন্ত চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে জেলার বাকীছড়া এলাকার প্রকল্পগুলোর কাজ আশাব্যঞ্জক ও সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন দুদক কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল নোমান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বান্দরবান সদর উপজেলার বাকীছড়া এলাকায় সরেজমine প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
দুদক সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে গভীর নলকূপ স্থাপন, জিএফএস (গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম) এবং রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।
এ বিষয়ে দুদক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, প্রথমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়েছে। এরপর বাকীছড়া এলাকায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কাজগুলোর মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনেকটাই সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে জেলার অন্যান্য উপজেলায় যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেগুলোরও পর্যায়ক্রমে তদন্ত ও মূল্যায়ন করা হবে। পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এদিকে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, দুদক যে প্রকল্পগুলো নিয়ে তদন্ত করছে, সেগুলোর অর্থ বরাদ্দ ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবছরের। তবে ওই সময়ে বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজগুলো পরবর্তীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিয়মকানুন মেনেই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং দুদকের এই তদন্তের মাধ্যমে কাজের প্রকৃত সত্যতা সবার সামনে উন্মোচিত হবে।