সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নে অভিনব কায়দায় মাত্র ১০ শতাংশ জমিতে একযোগে ১২ ধরনের শাকসবজি চাষ করে এলাকায় দারুণ সাড়া ফেলেছেন লুৎফর রহমান নামের এক উদ্যমী কৃষক। ‘১২০০ বস্তায় আদা, মাচায় লাউ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি অল্প জায়গায় বহুমুখী ফসল উৎপাদনের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই জমির একপাশে বেড তৈরি করে চাষ করা হয়েছে পুঁইশাক ও কলমিশাক। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্লাস্টিকের বস্তায় মরিচ, কদুয়া ও চিচিঙ্গা ফলানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ২০০টি বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে এবং আদার গাছের ফাঁকা জায়গায় রোপণ করা হয়েছে পেঁপে ও কাগজি লেবুর চারা। এছাড়া আদার মাচার ওপর লাউ চাষ করে একই জমি থেকে দ্বৈত সুফল পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সফল এই কৃষক লুৎফর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিয়ে তিনি সীমিত জমিতে সর্বাধিক ফসল ফলানোর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন। বাজারে প্রাপ্ত সবজিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় তিনি মূলত নিজের পরিবারের জন্য বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি নিশ্চিত করতে চান। পাশাপাশি এলাকার অন্য কৃষকদেরও এমন লাভজনক ও নিরাপদ চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা তাঁর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘খুবই অল্প জায়গায় একসঙ্গে এতগুলো ফসলের চাষ করা সম্ভব—তা লুৎফরের বাগান না দেখলে বিশ্বাস হতো না। তাঁর এই সফল উদ্যোগ দেখে আমাদের এলাকার অন্য কৃষকরাও মিশ্র পদ্ধতিতে চাষাবাদে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।’
এ বিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসান তারিক বলেন, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সীমিত জমি ব্যবহার করেই একসঙ্গে একাধিক ফসল উৎপাদন করা সম্পূর্ণ সম্ভব। কৃষক লুৎফরের এই মিশ্র চাষ তার একটি চমৎকার বাস্তব উদাহরণ।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী জানান, স্বল্প জমিতে বহুমুখী ফসল চাষের মাধ্যমে কৃষকরা একদিকে যেমন নিজেদের পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছেন, অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিনব ও মিশ্র চাষাবাদে কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।