আরিফুল ইসলাম রনক
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জিএম মাসুদ রানা জুয়েলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আদালতের আদেশে চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি এই হামলার শিকার হন। হামলায় তাঁর দুই পা ও হাতের হাড় ভেঙে গেছে এবং তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা কলেজে পৌঁছান। সে সময় কিছু লোক তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে নিজের কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল তাঁর কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার ফলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জানান, ৫ আগস্টের পর মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁকে লাঞ্ছিত করে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং ম্যানেজিং কমিটি তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে আদালত তাঁকে যোগদানের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আজ তিনি যোগ দিতে গেলে বহিরাগতরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ১৮ নভেম্বর ম্যানেজিং কমিটি তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল। যদিও তিনি আদালতের নির্দেশে স্বপদে বহাল হওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তবে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন।
কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান জানান, ডিগ্রি সেকশন খোলার নাম করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। ক্ষতিগ্রস্ত পাওনাদাররা এর আগেও তাঁর কাছে অভিযোগ করেছিলেন। চাকринঞ্চিত বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরাই এই হামলা চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।