সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লেবু। টানা তিনবার এই পদে দায়িত্ব পালনের পর এবার তিনি চতুর্থবারের মতো নির্বাচনী মাঠে নামার জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করায় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিগত মেয়াদে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কিছু রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও সাঁকো নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ হয়েছে। তবে এর মধ্যে কোনগুলো ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব উদ্যোগে এবং কোনগুলো অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথিপত্র দেখলেই স্পষ্ট হয়।
তারাপুর ইউনিয়নের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে নদীঘেঁষা চরাঞ্চল। বর্ষাকালে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থানীয়দের মতে, কিছু স্থানে সাঁকো ও কালভার্ট নির্মাণের সুফল মিললেও সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বর্ষাকালীন দুর্ভোগ এখনও ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের নিয়মিত যাতায়াতের জন্য উন্নত সড়ক ও পারাপার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা বলছেন আমিনুল ইসলাম লেবু। তবে এসব সেবার মান ও কার্যকারিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারাপুর ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের হাটবাজার ও চায়ের কাপে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। যদিও বর্তমান চেয়ারম্যানের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রার্থীরা এখনো মাঠে সেভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেননি। ভোটাররা বলছেন, প্রার্থীদের বিগত দিনের কর্মকাণ্ড, এলাকার সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনা করেই তারা রায় দেবেন।
তফসিল ঘোষণা এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হলে তারাপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।