মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
Title :
রামগঞ্জকে একটি আধুনিক ও উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম সৈয়দপুরে বিশেষ অভিযানে ৩টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার ২ সৈয়দপুরে ঘুষ না পেয়ে ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ীকে সাজানো মামলায় জেলে পাঠানোর অভিযোগ সুন্দরগঞ্জে শিক্ষক সংকটে স্থবির চর ভাটি বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান নাটোরে সোনালী ব্যাংকের ৫ প্রিন্সিপাল অফিসার বরখাস্ত, অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ রামগঞ্জে দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বেহাল ওয়াপদা সড়ক, চরম ভোগান্তিতে লক্ষ্মীপুরবাসী সৈয়দপুর বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান মাস্টার মারা গেছেন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শেরপুরে শ্রমিক দলের বিশাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ বান্দরবানে বাসা থেকে চার বছরের শিশুর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার রামগঞ্জ বাইপাস সড়কের বেহাল দশা: চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

সংসদে ‘মামুনুল হকের মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৫০ Time View
75

নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে আওয়ামী লীগ আমলের একটি ঘটনা জাতীয় সংসদে আলোচনায় তোলেন ঢাকা-১ আসনের এমপি খোন্দকার আবু আশফাক। তবে সরকারি ও বিরোধীদলের সদস্যদের অনুরোধে ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

স্পিকার বলেন, ‘মাওলানা মামুনুল হকের বিষয়ে ওই বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণীতে থাকার প্রয়োজন নেই। এখনো কিন্তু তিনি (মামুনুল হক) তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, তা চাই না।’

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় বিএনপির এমপি খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলছেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাবেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়লেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কি ছিল?

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে তিনি (মামুনুল হক) সরকারের পতন ঘটানোসহ বিভিন্ন কথা বলেছেন। তবে গাজীপুরে এক নারীসহ ধরা পড়ার ঘটনা ও ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গে তিনি কী ব্যাখ্যা দেবেন— এ প্রশ্ন তোলেন।

খোন্দকার আবু আশফাক বলেন, ছাত্রশিবির নেতা জিসান.. এ ইতিহাসও আপনারা। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে কিছু একটা বলতে দেখা যায়। তখন বক্তব্যের ইস্যু পরিবর্তন করেন খোন্দকার আবু আশফাক।

আবু আশফাক বলেন, ইসলামী ব্যাংক মানে একটা দেশ না, ইসলামী ব্যাংক একটি ব্যাংক। সেটার জন্য (সংসদে আলোচনা) একঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, সিগারেট-মদের জন্য ওই পাশ (বিরোধী দল) বলা হয়েছে, এগুলো ট্রেজারি বেঞ্চ খায় বলে এগুলো রাখা হয়েছে। আমি জানি না, আল্লাহ জানেন কার কি অভ্যাস আছে। তবে মুতা বিয়ের বিষয়ে তিনি স্পিকারের কাছে জানতে চান।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় বক্তব্যে না আনাই ভালো। একজন রাজনৈতিক নেতার পরকীয়া সম্পর্কে আপনি মন্তব্য করেছেন। সাধারণত যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সংসদে সমীচীন নয়। মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? মুতা বিয়ে হল সম্ভবত কেউ বিদেশে গেলে, আগের কালে নিয়ম ছিল সাময়িক এক মাসের জন্য সো কল্ড বিয়ে করতে পারতেন বা একজন সঙ্গী খুঁজে নিতে পারতেন। এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না করাই ভালো।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, মুতা বিয়ের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞ না, তবে কনসেপ্টের বিষয়ে আমি জানি। মামুনুল হক সাহেবের বিষয়ে যে তথ্য দিয়েছেন, এটা একেবারেই ভুল তথ্য। উনি মুতা বিয়ে করেননি। গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটেনি। তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা স্টাবলিশ। বিয়ে করা জায়েজ। বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।

সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয় তা কার্যবিবরণী হতে এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি। তখন স্পিকার বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া এখনো কিন্তু তিনি (মামুনুল হক) তার অবস্থান পরিষ্কার করেননি। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক চাই না।

পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতের মুজিবুর রহমান বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, তিনি এ প্রসঙ্গটাকে থামানোর জন্য ইশারায় সংসদ সদস্যকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। এটা এখন হারাম হয়ে গেছে, নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। এখন করা যাবে না।

২০২১ সালে ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টের কক্ষে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ এলাকাবাসী। সেখানে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন খবর পেয়ে হেফাজতের কর্মী-সমর্থক ও মাদরাসাছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com