মোঃ মাইনুল হক (নীলফামারী)
নীলফামারীর সৈয়দপুরে দাবিকৃত ৩০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে নূর ইসলাম নামের এক ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ীকে যোগসাজশী মামলায় কারাগারে পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. আশরাফুল, তিনি সৈয়দপুর থানায় কর্মরত আছেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
ভুক্তভোগী নূর ইসলাম জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর জুম্মার নামাজের ঠিক আগমুহূর্তে এসআই আশরাফুল একটি পুলিশ পিকআপ ভ্যান নিয়ে শহরের রসুলপুর এলাকার ফ্রি-আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন তার দোকানের সামনে আসেন। এ সময় তাকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কথা বলে ডেকে পিকআপে উঠতে বলা হয়। জুম্মার নামাজ শেষে দেখা করার অনুরোধ জানালেও তা কর্ণপাত করেননি ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে গাড়িতে ওঠার সময় পাদানিতে কিছু বৈদ্যুতিক তার দেখতে পেয়ে নূর ইসলামের সন্দেহ হয় এবং তিনি থানায় যেতে অস্বীকৃতি জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জুম্মার নামাজ আদায়ের সুযোগ না দিয়েই তাকে জোরপূর্বক থানায় নিয়ে যান এসআই আশরাফুল। পরে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে হুমকি দেওয়া হয় যে, টাকা না দিলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হবে। নূর ইসলাম ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, থানা ভবনের মুন্সির রুমের দরজা বন্ধ করে তার বিরুদ্ধে একটি সাজানো এজাহার তৈরি করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে তাকে নীলফামারী জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এসআই আশরাফুল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আসামিরা বাঁচার জন্য নানা কথা বলে। তবে নূর ইসলামের দোকান থেকে চোরাই তার পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, দোকানের ভেতর থেকে তারের কিছু রাবারের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে এবং চুরি যাওয়া তারের সঙ্গে মিল থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা মুঠোফোনে জানান, ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে চোরাই তার উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেই সূত্র ধরেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।