সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে আদালতে আসামিদের সোপর্দ করার সময় বয়স, গ্রেপ্তারের সময় এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর প্রেক্ষিতে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (সুন্দরগঞ্জ)-এর বিচারক পাঁপড়ি বড়ুয়া এই আদেশ দেন। পরবর্তীতে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আনিছুর রহমান (৫২), সুলতান আহম্মেদ (৬৫) ও লিটন মণ্ডলকে (৩৯) আদালতে হাজির করা হলে তাদের বয়স ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আসামি সুলতান আহম্মেদ নিজের বয়স ৭২ বছরের বেশি বলে দাবি করেন এবং জানান যে তিনি লিভার ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এছাড়া, অপর আসামি লিটন মণ্ডল দাবি করেন তাকে দুপুর সাড়ে ১২টায় আটক করা হলেও পুলিশি নথিতে গ্রেপ্তারের সময় দেখানো হয়েছে বিকেল সাড়ে ৩টা। নথিপত্রের এই ত্রুটি এবং তদন্ত কর্মকর্তার সিল-স্বাক্ষরে অসঙ্গতির কারণে আদালত এই নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা ও দহবন্দ ইউনিয়ন এলাকায় আধঘণ্টার ব্যবধানে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের ভিত্তিতে প্রথমে শান্তিরাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানকে এবং পরবর্তীতে ২৩ সেপ্টেম্বর আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে।