রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায় অর্থ লেনদেন ও সহযোগিতার অভিযোগে বিএনপির তিন স্থানীয় নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে ইউনিয়ন বিএনপি।
গত ৩ অক্টোবর চণ্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. কাউছার পাটোয়ারী স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠির মাধ্যমে এই শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। অভিযুক্ত নেতারা হলেন—চণ্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান (মনা)।
দলীয় সূত্র ও নোটিশের বিবরণ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফোনালাপে রবিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মাদক ব্যবসা পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেনে ওই তিন নেতার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এমন অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও জানতে চাওয়া হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী এমন কাজের জন্য কেন তাদের দলের সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না। নোটিশ হাতে পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চণ্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির নিকট লিখিতভাবে সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
চণ্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোয়েব পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মো. মুরশিদের রহমান রিপন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তফা কামালের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, নোটিশের অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপি এবং রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত তিন নেতার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।