মোঃ মাইনুল হক (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের রেলওয়ে অফিসার্স কলোনি এলাকায় মাত্র দুই ব্যক্তির ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা একটি শতবর্ষী ডাস্টবিন গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ওই এলাকার শতাধিক পরিবার ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সৈয়দপুর শহরের খানকায়ে কাদেরিয়া মোখতারিয়া আনোয়ারুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা এলাকায় ডাস্টবিন পুনর্বহালের দাবিতে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। এতে এলাকার সর্বস্তরের নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে তাদের তীব্র দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরেন।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা মো. গোলাম (৭২) জানান, এলাকাটি মূলত রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত কোয়ার্টার। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে একটি ময়লার ডাস্টবিন ছিল। সম্প্রতি পৌর কর্তৃপক্ষ রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করলে, স্থানীয় বাসিন্দা সারফারাজ ও আদনান নামের দুই ব্যক্তি ডাস্টবিনটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেন। এলাকাবাসী বাধা দিলে অভিযুক্তরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং নারীদের হেনস্তা করেন। এমনকি বহিরাগত লোকজন ডেকে এনে আসলাম নামের এক স্থানীয় বাসিন্দাকে বেদম মারধর করা হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ভুক্তভোগী আসলাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ উল্টো তাদের নানা ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা রুখসানা শিরিন (৫৫) বলেন, মাত্র দুটি পরিবার নিজেদের স্বার্থে এলাকার শতাধিক পরিবারকে চরম কষ্টে ফেলেছে। ডাস্টবিন উচ্ছেদ করায় এখন ময়লা ফেলার কোনো জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। পুরো মহল্লার মানুষ অস্বস্তিকর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে ডাস্টবিন পুনরায় নির্মাণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই।
আরেক ভুক্তভোগী আসলাম আলী (৪৫) জানান, সারফারাজ ও জনির লোকজন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ডাস্টবিনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় বাইরে থেকে সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক এনে তাকে মারধর করা হয়েছে। সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর প্রশাসককে বিষয়টি জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে খোলা স্থানে ময়লা ফেলায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে।
জাবেদ (৪২) নামের আরেক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ডাস্টবিনটি নিজেদের বাড়ির সামনে হওয়ায় দুর্গন্ধের অজুহাতে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। অথচ অভিযুক্তরা নিজেরাই ড্রেনে ময়লা ফেলছেন এবং তাদের টয়লেটের সংযোগ সরাসরি ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত করে পরিবেশ নষ্ট করছেন।
জেসমিন (৩২) নামের এক নারী বলেন, পৌরসভা থেকে ঘরে ঘরে ড্রাম দেওয়ার কথা বলা হলেও আমাদের বাসাগুলোর আয়তন খুবই ছোট, যেখানে ড্রাম রাখার কোনো জায়গা নেই। তাছাড়া আমাদের পক্ষে ড্রামের ভাড়া দেওয়াও সম্ভব নয়। তাই আমরা দ্রুত ডাস্টবিনটি পুনর্নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সারফারাজের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ডাস্টবিন তারা ভাঙেননি, পৌর কর্তৃপক্ষ ভেঙেছে। তবে আসলাম আলীকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাবেক কাউন্সিলর শাহীন আকতার শাহীনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন এবং এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন।