সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা
রাজধানীর উত্তরখানে এক বিউটি পার্লারকর্মীকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর মরদেহ ড্রামে ভরে ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরে ফেলে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ধারাবাহিক ছায়া তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর সকালে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচ থেকে একটি প্লাস্টিকের ড্রামবন্দি অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। নিহতের পরিচয় শনাক্তের পর ছায়া তদন্ত শুরু করে পিবিআই এবং ক্লুলেস এই ঘটনার সফল সুরাহা করে। নিহত নারী গাজীপুরের টঙ্গীর একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে এক বীভৎস চিত্র। উত্তরখানের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওই বিউটি পার্লারকর্মীকে কৌশলে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ১০ থেকে ১২ জনের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়। এরপর মূল অভিযুক্ত মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা তাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিলে ভুক্তভোগী নারী আরও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ফাতেমা বটি দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন।
আহত হয়ে ওই নারী মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে অন্য আসামিরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন এবং পরিশেষে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে ট্রাকে করে শেরপুরে এনে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে পঞ্চগড় থেকে নুর ইসলাম ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরবর্তীতে রাজধানীর উত্তরখানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সজল, নুর মোহাম্মদ ওরফে গসা ওরফে বুলা এবং মূল প্রবক্তা মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং বাকি আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ক্লুলেস এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করায় পিবিআইয়ের চৌকস টিম দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।