সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা
শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানের দৌরাত্ম্য যেন থামছেই না। কঠোর নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ভারত থেকে প্রতিনিয়ত আসছে অবৈধ পণ্য ও প্রসাধনী। এরই ধারাবাহিকতায়, উপজেলার বাবলাকোনা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ লাখ ৬০ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গত বুধবার গভীর রাতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) এই সফল অভিযান পরিচালনা করে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে বিজিবির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীবরদীর সীমান্তবর্তী বাবলাকোনা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় বিজিবির একটি দল। এ সময় পাচারকারীরা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৮ লাখ ৬০ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করা হয়।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) জানিয়েছে, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে তাদের ২৪ ঘণ্টার নিয়মিত টহল ও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে মাদকদ্রব্য, অবৈধ পণ্য পাচার এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এই ধরনের কঠোর অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযান ও টহল সত্ত্বেও শেরপুরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চোরাকারবারিদের বেপরোয়া কার্যক্রম থামছে না। প্রায় প্রতিদিনই ভারত থেকে নিয়ে আসা অবৈধ পণ্য ও পাচারকারীদের আটকের ঘটনা ঘটলেও, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে—এমনটাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও রৌমারীর বিভিন্ন দুর্গম পথ ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ প্রসাধনী, মাদকসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসছে। এসব অবৈধ চোরাচালানের কারণে একদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব, অন্যদিকে বিপথগামী হচ্ছে এলাকার যুবসমাজ।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “মাঝে মাঝে কিছু খুচরা ব্যবসায়ী বা কম মূল্যের মালপত্র ধরা পড়লেও মূল গডফাদার ও প্রধান চোরাকারবারিরা ধরা না পড়ায় এই অবৈধ ব্যবসা কোনোভাবেই থামছে না। সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়িয়ে এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলতে হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকার চোরাচালান পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে কেবল বিজিবির একক অভিযান যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তবেই সীমান্তবর্তী এই জনপদে শান্তি ও আইনের শাসন স্থায়ীভাবে বজায় রাখা সম্ভব হবে।