সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা
পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপন করা শেরপুরের এক নবম শ্রেণির ছাত্রকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের সংবাদ দেখে একটি সুযোগসন্ধানী প্রতারক চক্র তার পরিবারকে অপহরণের ভয় দেখিয়ে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ২৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে শেরপুর জেলা শহরের কৃষি ইনস্টিটিউট সংলগ্ন একটি ছাত্রমেস থেকে মহিবুল ইসলাম (১৫) নামের ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার। উদ্ধার হওয়া মহিবুল শহরের ‘নবারুণ পাবলিক স্কুল’-এর শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে মায়ের অনুপস্থিতিতে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মহিবুল। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর কোনো সন্ধান না পেয়ে রাতে পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং ফেসবুকে তার ছবিসহ নিখোঁজের পোস্ট দেয়।
ওই পোস্ট দেখে একটি প্রতারক চক্র মহিবুলের বাবা কলেজ শিক্ষক শাহীনুর ইসলামের কাছে ফোন করে দাবি করে যে, তাদের ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। সন্তানের জীবনের কথা চিন্তা করে আতঙ্কিত বাবা তখন চক্রের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ২৪ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।
পরিবারের অভিযোগ পেয়ে মাঠে নামে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সদর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রাবাস থেকে মহিবুলকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার জানান, দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার তীব্র মানসিক চাপ ও ভয়ে সে নিজেই মেসে গিয়ে লুকিয়ে ছিল। এছাড়া অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনলাইন ব্যবহারে সতর্কতা: বিপদের সময় সামাজিক মাধ্যমে যোগাযোগের নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অপরিচিত কোনো নম্বর থেকে ফোন বা হুমকি পেলে আতঙ্কিত হয়ে টাকা পাঠানোর আগে অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা দরকার।
অভিভাবকদের করণীয়: পরীক্ষার অতিরিক্ত ভয়ে সন্তানদের এমন আত্মগোপনের সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তারা গভীর মানসিক চাপে থাকে। পড়ালেখার ভুলের চেয়ে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—অভিভাবকদের এই বার্তাটি কিশোর-কিশোরীদের মনে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।