সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে লালমনিরহাট জেলায় স্মরণকালের বড় ধস নেমেছে। গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় পাসের হার এক ধাক্কায় ৩২.৮৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৬.৭১ শতাংশে। ফলাফলের এমন বিপর্যয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
এর আগে ২০২৪ সালে লালমনিরহাটে পাসের হার ছিল ৭৯.৫৬ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫৭.৫ শতাংশে। ধারাবাহিক এই পতনের ফলে চলতি বছর পাসের হার তলানিতে এসে ঠেকেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর জেলা থেকে মোট ৭,৪৫৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ৩,৪৮২ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩,৯৭৩ জন। পুরো জেলায় জিপিএ-৫ লাভ করেছেন ১০২ জন শিক্ষার্থী। অতীতের মতো এবারও পাসের হার ও জিপিএ অর্জনে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। ৪,১২০ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২,১৯৯ জন (পাসের হার ৫১.৪৩ শতাংশ, জিপিএ-৬৬টি) এবং ৩,৩৩৫ জন ছাত্র পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১,৩৬৩ জন (পাসের হার ৪০.৮৭ শতাংশ, জিপিএ-৩৬টি)।
ফলাফলের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—জেলার মোট ৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৮ জন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: হাতীবান্ধা মডেল কলেজ (১১ জন), কালীগঞ্জের সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), আদিতমারীর গন্ধমরুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২ জন), হাতীবান্ধার আমিনুর রহমান কলেজ (১ জন), কালীগঞ্জের দুহুলী এসসি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন) এবং একই উপজেলার দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১ জন)।
শিক্ষার্থী তপু সিংহ আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজের ছাত্র বলেন, ‘আশা অনুযায়ী জিপিএ পাইনি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার খাতা মূল্যায়নে বেশ কড়াকড়ি করা হয়েছে।’ অভিভাবক নাসিমুল করিমের মতে, ‘লোকদেখানো গ্রেডিং সিস্টেম না রেখে যার যতটুকু যোগ্যতা, তাকে সেটাই দেওয়া উচিত।’
অন্যদিকে শিক্ষক অর্ণব কোয়েল মনে করেন, ‘গতানুগতিক প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়নের ফলে এই ফল এসেছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষামূল্যায়ন হচ্ছে।’
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ফেল করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া রোধ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী এক মাসের মধ্যে ১ বা ২ বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।