ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় নাটোর জেলায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি এমন ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই ফল বিপর্যয়ের সঠিক কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পাস করা এই ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২টি এমপিওভুক্ত এবং বাকি ১৬টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ফল বিপর্যয়ের জন্য কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনায় অনীহা এবং অভিভাবকদের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রস্তুতিও শুরু করেছে।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো: গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কমার্স কলেজ এবং নলডাঙ্গা উপজেলার শাখারিপাড়া ফাজিল মাদরাসা।
বাকি ১৬টি নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান হলো: নাটোর সদর উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহাবিদ্যালয়; বাগাতিপাড়া উপজেলার পৌর মহিলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ, তমালতলা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ ও টিপুরিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ; গুরুদাসপুর উপজেলার নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিজনেস কলেজ, চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দুর্গাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্য এবং বিজনেস ইনস্টিটিউট; লালপুর উপজেলার মাকড়াম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, রাধাকান্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, নেংগোপাড়া আলিম মাদরাসা ও রামপুর জামিরিয়া আলিম মাদরাসা; সিংড়া উপজেলার আগাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ; এবং নলডাঙ্গা উপজেলার সরকুতিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সাতারভাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
নলডাঙ্গার শাখারীপাড়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান জানান, অতীতে ভালো ফলাফল করলেও এবার একজনও পাস না করায় তাঁরা অত্যন্ত বিস্মিত এবং খাতা চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গুরুদাসপুরের চলনবিল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জানান, তাঁদের ২৩ জন পরীক্ষার্থীই মূলত বাংলা ও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছেন।
শিক্ষাবিদ সুবিদ কুমার মৈত্র মনে করেন, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর পেছনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষকদের ভূমিকা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী বলেন, নির্দেশ অমান্যকারী বা সদুত্তর দিতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমী আক্তার জানান, শূন্য পাসের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবছর নাটোর জেলায় উচ্চমাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা বোর্ডের অধীনে মোট ১৭৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।