ছাত্রদলের মাস্তানি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টনে সংগঠনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে দেওয়ার দাবি তোলায় করায় শিবির নেতাদের ওপর হামলা করে ছাত্রদল।
নূরুল ইসলাম বলেন, শত কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে শতভাগ স্বচ্ছতা থাকবে এবং কেউ চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কিন্তু চাঁদা ও অবৈধ কমিশনের ভাগ পাওয়ার লোভী মানসিকতায় সাধারণ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও জকসু প্রতিনিধিদের ওপর হামলা করে ছাত্রদল। প্রতিটি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি করতে না পেরে এই সন্ত্রাসীরা আজ উন্মাদ হয়ে গেছে।
শিবির সভাপতি বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ওপর সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। ভিত্তিহীন গুজবকে হাতিয়ার করে থানার ভেতর ডাকসু নেতাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের পর জকসুর ভিপি, জিএসের ওপর হামলা চালানো হল।
নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্যাম্পাসে সুস্থ, গণতান্ত্রিক ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিনির্মাণের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা হচ্ছে। সরকারের পাঁচ মাসের চরম জনদুর্ভোগ, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতেই দেশজুড়ে ছাত্রদল-যুবদলের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিন দফা জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে, জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফের চোয়াল ভেঙে দেওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মোস্তাফিজুর রহমান রুমি, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনায় জড়িত যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করতে হবে। ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের নিয়ন্ত্রণ শিক্ষার্থীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং জগন্নাথের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর।