বুধবার সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির অর্জন নয়, বরং এর প্রকৃত নায়ক দেশের গণতন্ত্রকামী সাধারণ মানুষ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন ছিল রাষ্ট্র অর্জনের লড়াই, তেমনি ২০২৪ সালের এই বিপ্লব ছিল অর্জিত সেই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম। তিনি জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদ হওয়া ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ফ্যাসিবাদী শাসনামলের নৃশংসতাকে ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই স্মৃতি জাদুঘর কেবল জুলাই বিপ্লবের স্মারক হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দলিল হিসেবে কাজ করবে। তিনি অতিরঞ্জিত বয়ানের বদলে সঠিক ও সত্য ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জাদুঘরে উপস্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক ভাষাগুলোতেও করার আহ্বান জানান। এছাড়া, হতাহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, শহীদদের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসাসেবা ও ভাতা প্রদানের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
দেশ পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ৩১ দফা ইশতেহার ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বর্তমানে কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে, যা পরোক্ষভাবে পরাজিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। পরিশেষে, আন্দোলনে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশ কখনোই আর তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।