২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সোমবার, যা ইতিহাসে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এক অবিস্মরণীয় দিন। আগের দিনগুলো জুড়ে কারফিউ ও আন্দোলনের তীব্রতায় ঢাকা ছিল এক থমথমে অবস্থায়। সকালে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং রাজপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকামুখী জনস্রোত সব বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে জড়ো হতে থাকে। চারদিকে আন্দোলনকারীদের প্রবল চাপে শেখ হাসিনার শাসনের ভিত্তি দ্রুত ভেঙে পড়তে শুরু করে।
গণভবনের পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তেজনাকর। নিরাপত্তা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনার পর শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে সম্মত হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন এবং এরপর ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে দেশত্যাগ করেন। তার দেশ ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে অভূতপূর্ব উল্লাস ও বিজয় মিছিলের জোয়ার বয়ে যায়। একইসঙ্গে কিছু স্থানে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।
শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিশ্চিত হওয়ার পর বিকেলে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি জনগণকে ধৈর্য ধারণ ও সংঘাত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পরবর্তীতে ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে নানা ধোঁয়াশা থাকলেও এটি স্পষ্ট যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।