ইবি প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন, অবৈধ শিক্ষার্থীদের দ্রুত অপসারণ ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৮ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বটতলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। এসময় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি হলের শাখা সভাপতি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আবাসিক হলগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের অবৈধ প্রভাব বিস্তার কিংবা নিয়মবহির্ভূত আশ্রয়কেন্দ্র হতে পারে না। মেধা, জ্যেষ্ঠতা, বৈধতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার ভিত্তিতে সিট পাওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীর অধিকার। সম্প্রতি শহীদ জিয়াউর রহমান হলসহ বিভিন্ন হলে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রশাসনিক প্রভাবে সিট না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে অবস্থানের বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ করা। রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ বা প্রশাসনিক প্রভাবে সিট বরাদ্দ বন্ধ করা। মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুসরণ করে নিয়মিত সিট বরাদ্দ দেওয়া। ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা এবং হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সিট বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধে প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করা।
এছাড়া হলগুলোতে বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ ও রাজনৈতিক অপচর্চা মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নিতে হবে। হলের ডাইনিংগুলোতে সুষম খাদ্য ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “একজন বৈধ শিক্ষার্থী যেখানে সিটের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করবে, আর রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করবে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সংঘাত নয়, বরং সমাধান চাই; দখলদারিত্ব নয়, মেধা ও বৈধতার ভিত্তিতে আবাসন ব্যবস্থা চাই।”
তিনি আরও জানান, প্রশাসন যদি এসব দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ নেয়, তবে তাকে স্বাগত জানানো হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষায় পরবর্তীতে তাদের সাথে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।