শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
Title :
রামগঞ্জে বিনামূল্যে ৭ শতাধিক অসহায় মানুষকে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান শেরপুরে সাড়ে ৮ লাখ টাকার ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, থামছে না চোরাচালান সিন্ডিকেট নাটোরে সিংড়া স্মার্ট প্রেস ক্লাবে ‘স্মার্ট সাহিত্য পাঠাগার’ উদ্বোধন ও দোয়া মাহফিল রামগঞ্জে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় প্রবাসী যুবককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মাহফুজ আটক ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা মামলা: দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার ওসি প্রত্যাহার রামগঞ্জে মাকে খুঁজতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসির নতুন পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ কালিয়াকৈর আনসার-ভিডিপি একাডেমির কুটিরশিল্পে মুগ্ধ চার দেশের রাষ্ট্রদূত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক তারিখ ঘোষণা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার নতুন ডিএস হিসেবে যোগ দিলেন মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

আমরা এই রায়ে শুকরিয়া আদায় করছি: চিফ প্রসিকিউটর

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৫ Time View
40

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট সাতজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি বিচারিক প্যানেল আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম, অন্যদিকে আসামিপক্ষে আইনি লড়াইয়ে নিয়োজিত ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও ইশরাত জাহান। আলোচিত এই রায় ঘোষণার পরই সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান। এছাড়া এই তালিকায় আরও রয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। বিচারিক প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই এই সাতজন আসামি পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই আদালতের এই কঠোর রায় সম্পন্ন হয়েছে। আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি তাদের উল্লেখযোগ্য অংশের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন।

রায় প্রকাশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। তিনি গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, এই মামলায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট চারটি করে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচার প্রক্রিয়ায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে পেশ করা সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতে অধিকাংশ অভিযোগই আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত মনে করেছেন। এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বেদনার কিছুটা হলেও অবসান ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও উল্লেখ করেন যে, এই আসামিদের নির্দেশ ও নির্মম কর্মকাণ্ডের কারণে দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। বর্তমান সময়ে পলাতক থাকা এই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে তারা যেহেতু এখন আইনগতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, তাই তাদের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আদালতের এই রায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com