বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
Title :
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা চলছে ব্যুরো বাংলাদেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, বেতন ৯০ হাজার টাকা শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার আসামিরা ট্রাইব্যুনালে সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকার মৃত্যু, লুণ্ঠিত মালামালসহ গ্রেপ্তার ২ ফেসবুকে পেজের লাইক বাড়ানোর বিজ্ঞাপন আর দিতে পারবেন না কিশোর কুমারের গান গেয়ে নৈশভোজে চমক দিলেন মালয়েশিয়ান প্রধানমন্ত্রী হাইসিকিউরিটি কারাগার ভেঙে পলাতক আসামি গ্রেফতার প্রতিদিন ৩০ মিনিট ওয়াশিং মেশিন চালালে মাসে বিদ্যুৎ বিল কত? গরু চুরি করে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে রেখে গেল চোর! অবসর ঘোষণার পর বিদায়ী ম্যাচে ডাক পেলেন মেসি, কবে কার বিপক্ষে খেলবেন?

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ৭ আসামির ৫০ শতাংশ সম্পত্তি পাবে জুলাই শহীদের পরিবার

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ Time View
2

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় কার্যক্রমে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ মোট সাতজন শীর্ষ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের একটি বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সম্মানিত সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনি যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন যা দেশের বিচারব্যবষ্টায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংক্ষিপ্ত আকারে ৫৫৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ রায় পাঠ করা শুরু হয় এবং বিচারিক প্যানেলের প্রধান রায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিচার প্রক্রিয়ার শুরুতেই প্রধান আসামি এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। একে একে এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যান্য প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধেও একই সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষণা করেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় থাকা অন্য শীর্ষ আসামিরা হলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

তালিকায় থাকা বাকি আসামিরা বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে যুক্ত ছিলেন যাদের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালত রায় ঘোষণার সময় যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের মৃত্যুদণ্ডেও আদেশ দেন। এছাড়া বিচারিক প্যানেল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষণা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায় যে এই মামলার বিচার চলাকালীন সময়ে দণ্ডিত সব আসামিই পলাতক অবস্থায় ছিলেন।

রায় ঘোষণার পাশাপাশি আদালত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করেছেন যা জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে জড়িত। বিচারিক আদেশে বলা হয়েছে যে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এই সাত আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তি অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করা হবে। বাজেয়াপ্তকৃত মোট সম্পত্তির অর্ধেকাংশ বা ৫০ শতাংশ জুলাই মাসের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর কল্যাণে প্রদানের জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন এবং সবশেষে এই ঐতিহাসিক ও ন্যায়ভিত্তিক রায়টি প্রদান করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com