রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ১৬১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯২টিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ খালি থাকায় সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোট ১৬১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ১৮ জন সহকারী শিক্ষক চলতি দায়িত্বে এবং ৭৪ জন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মূলত অবসরজনিত অবসর, বদলি এবং মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০১৭ সালের পর থেকে এই উপজেলায় প্রধান শিক্ষক পদে কোনো পদোন্নতি হয়নি। ফলে এসব পদ শূন্যই রয়ে গেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। তাছাড়া সহকারী শিক্ষকের পদও খালি থাকায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার মানের ওপর। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের দাপ্তরিক ও বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রায়ই উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়, যা ক্লাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। পাশাপাশি, সহকর্মীরা সমমর্যাদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ মানতেও অনেক সময় অনীহা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রামগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল বাশার জানান, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষকরা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেকেই পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যা শিক্ষকতার জীবনে অত্যন্ত হতাশাজনক।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইমরান হোসেন বলেন, “অবসর, বদলি ও মৃত্যুর কারণে প্রধান শিক্ষক পদগুলো শূন্য হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে শূন্য পদের তালিকা এবং পদোন্নতির প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। আগে মামলার জটিলতার কারণে পদোন্নতি বন্ধ থাকলেও এখন আইনি জটিলতা কেটে গেছে, আশা করছি খুব দ্রুত পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”