ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুরে পূর্ববিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনা মীমাংসার জন্য আয়োজিত শালিস বৈঠকে ডেকে নিয়ে দুই ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মাংস বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের শাস্তির দাবিতে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এলাকাবাসী একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার বেড়গঙ্গারামপুর এলাকার জলিল শেখের ছেলে জহুরুল শেখ (৩৩) এবং শামসের আলীর ছেলে মাজেম আলী (৩৮)। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রুবেল আলী বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম একই এলাকার আজিত আলীর ছেলে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আবু রায়হান, আয়জার প্রামাণিক, রুবেল শেখ, আব্দুল কুদ্দুস, সমেজ আলী ও রাশিদা বেগম প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত সাইফুল ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পূর্বের একটি ঘটনার জেরে শালিস ডেকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মাংস বিক্রেতা সাইফুলের এক কর্মচারীর সঙ্গে পারিশ্রমিক নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি নিয়ে হাতাহাতির সূত্রপাত হলে স্থানীয়রা বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শনিবার রাতে শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। শালিস চলাকালীন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা। হামলায় জহুরুল ও মাজেম গুরুতর আহত হন এবং সমেজ আলীর একটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
শালিসের মধ্যস্থতাকারী আব্দুল কুদ্দুস জানান, উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে সমঝোতার চেষ্টা চলছিল, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত আসার আগেই সাইফুল অতর্কিত হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করে তোলে। এমনকি তাকেও মারধর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, পাওনা টাকা নিয়ে কর্মচারীর সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে জলিল ও জহুরুলরা উল্টো তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।