হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি হওয়ার পর মৌলভীবাজার থেকে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশি বাধার কারণে হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে না পেরে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পরই আবার মৌলভীবাজারে ফিরে যান। তারা বুধবার রাতে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে অবস্থান করলে রাত যাপন করে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের শহরে ঢুকতে দেয়া হয়নি; পরে নেতারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এসে অভিযোগ দেন।
এর আগে বুধবার বিকেলে সার্কিট হাউস থেকে বের হওয়া গাড়িবহর শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের শ্রীমঙ্গল ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ রাস্তায় ব্যারিকেড বসিয়ে গতিরোধ করে এবং খালি একটি ট্রাক রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখে। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলম প্রমুখের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কিও হয়। কিছু সময় পরে গাড়িবহর সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তী এলাকা রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডে আবারও পুলিশ বাধা দেয়।
পুলিশি বাধা অতিক্রম করে সামান্য এগোলে কামাইছড়া এলাকায় ফের ব্যারিকেডে আটকে পড়ে তারা; বেশ কিছু সময় নেতাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় বসে প্রটেস্ট করেন। দীর্ঘ আলোচনার পরই পুলিশ তাদের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিতে বলে। রাত আটটায় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল সেখানে অভিযোগ দায়ের করেন; দলের তরফে উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম, নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু ও সারোয়ার আলম। এছাড়া, হবিগঞ্জে এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় জেলা যুব শক্তি আহ্বায়ক তন্ময় তাহের রুবেল বাদী হয়ে মামলা করেছেন; মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।