২০০৯ সালে যখন পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন পরপারে পাড়ি জমান, তখন তার নামের পাশে ছিল প্রায় ৪৫ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল ঋণের বোঝা। কিন্তু মৃত্যুর ১৭ বছর পার হতে না হতেই সেই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমানে তার এস্টেট বিশ্বের অন্যতম সফল ও ধনী বিনোদন সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে। ফোর্বসের তথ্যমতে, মৃত্যুর পর থেকে এ পর্যন্ত তার আয় সাড়ে তিনশ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি ২০২৫ সালেও বিশ্বের মৃত তারকাদের আয়ের তালিকায় তিনি শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন।
জ্যাকসনের এই অভাবনীয় আর্থিক সাফল্যের পেছনে কাজ করেছে তার রেখে যাওয়া মেধাসম্পদ ও সংগীতের স্বত্বের সঠিক ব্যবস্থাপনা। বিশেষ করে আশির দশকে কেনা বিটলসের চার হাজার গানের স্বত্ব এবং পরবর্তীতে সনির সঙ্গে করা চুক্তিগুলো তার এস্টেটকে বিলিয়ন ডলারের সম্পদে রূপান্তরিত করেছে। এর পাশাপাশি ‘দিস ইজ ইট’ চলচ্চিত্র, ‘এমজে: দ্য মিউজিক্যাল’ মঞ্চনাট্য এবং লাস ভেগাসের জনপ্রিয় শো ‘মাইকেল জ্যাকসন ওয়ান’ থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ অর্থ আসছে।
ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এখনো তার গান সমানতালে জনপ্রিয়, যা প্রতিনিয়ত রয়্যালটি নিশ্চিত করছে। সব মিলিয়ে সংগীত, সিনেমা, মঞ্চ এবং লাইসেন্সিং ব্যবসার সমন্বয়ে মাইকেল জ্যাকসনের নাম এখন একটি লাভজনক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। মৃত্যুর সময়কার আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠে তার এস্টেট যে বিশাল অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, তা বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।