শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

প্রেম-রোমান্সনির্ভর সিনেমা-নাটক বন্ধে আইনি নোটিশ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১ Time View
13

শুধু প্রেম ও রোমান্সনির্ভর সিনেমা ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কড়াকড়ি আরোপের দাবি জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং তরুণদের সৃজনশীল মেধা বিকাশের লক্ষ্যেই এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোটিশকারী আইনজীবী।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ আইনি নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদসচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের চলচ্চিত্র ও নাটকে প্রেম ও রোমান্সনির্ভর গল্পের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কনটেন্টের অতিরিক্ত উপস্থিতি সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে বিচ্যুত করছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, কিছু নাটক ও সিনেমায় পরকীয়া এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক নৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গণমাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ প্রদর্শন সমাজে নৈরাজ্য ও অপরাধ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন মেনে চলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা নাগরিকের কর্তব্য। ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্‌স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে এর ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে অবিলম্বে কড়াকড়ি আরোপ করা এবং তরুণ সমাজকে নৈতিকভাবে গড়ে তুলতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণে নির্দেশনা দেওয়া।

আইনি নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নোটিশকারীকে জানাতে বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com