বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন
Title :
নওগাঁয় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ, ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা শেরপুরে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজির সফর: সেরা পুলিশ সদস্যরা পেলেন পদক সৈয়দপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ৪৮ ঘণ্টায় ১২ মাদক কারবারি গ্রেফতার শেরপুরের গজনী সীমান্তে ১৭ লাখ টাকার ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ, আটক ট্রলি নাটোরে র‍্যাবের সোর্স পরিচয়দানকারী কামরুল ইসলাম আটক গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পানিতে ডুবে দেড় বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন এমপি বিলকিস ইসলাম, দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা রামগঞ্জে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১১ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু কালিয়াকৈরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন ও আটকে রাখার অভিযোগ রামগঞ্জে প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি দিঘির পাড় দখল করে ভবন নির্মাণ!

জামায়াত ঐক্যে ফাঁটল, জোট ছাড়ছে এনসিপি!

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৪০ Time View
51

নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক জোটে ভাঙনের আভাস মিলছে। কয়েক দিন আগে জোট ছেড়েছে খেলাফত মজলিস। এবার জোটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, এনসিপির ভেতরে জোটে থাকার রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি কওমি ঘরানার ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্প জোট গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে।

এনসিপির নেতারা বলছেন, তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য একটি বৃহৎ জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। তাদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে সে সুযোগ সীমিত। নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে সেখানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।

গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র আওতায় ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট একত্র করার লক্ষ্য নিয়ে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল জোট গঠন করে। পরে এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপি যোগ দিলে তা ১১-দলীয় জোটে পরিণত হয়। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচন শুরুর আগেই জোট ছাড়ে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে শরিকদের মধ্যে বাড়তে থাকে দূরত্ব।

গত ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ার ঘোষণা দিলে সেই সংকট আরও স্পষ্ট হয়। এখন এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে থাকা কিংবা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সংস্কার, বিচার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন কোনো জোট গঠিত হলে সেখানে এনসিপির ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্য জানিয়েছেন, জুলাই মাসের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দলীয় সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে ভিন্ন কৌশল
জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সবচেয়ে আগে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এনসিপি। দলটি ইতিমধ্যে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও প্রার্থী বাছাই চলছে।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেটেও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে দলীয় সূত্র বলছে, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তর এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দলের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা জোটগত অবস্থানের পক্ষেই রয়েছেন।

কওমি দলগুলোর উদ্যোগ
এদিকে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় সাতটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঐক্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সূত্রগুলোর দাবি, সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে লিখিতভাবে তাদের মতামত ও প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের কাঠামো, নেতৃত্ব ও কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তারা নতুন উদ্যোগে যুক্ত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশ মনে করছে, তাদের নেতৃত্বাধীন জোটে ভাঙন ধরানোর পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটের ভেতরে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। এনসিপির তৎপরতা তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক বিষয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় জাতীয় পর্যায়ে সমঝোতা হয়েছিল। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই বাস্তবতা ভিন্ন। কোথাও সমঝোতা হলে তা স্থানীয় পর্যায়েই হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com