ইমাম হাছাইন পিন্টু নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল হান্নানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আদেশে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে ওসি হান্নানকে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আদেশের দিনই তাকে থানা থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় হেলমেট পরিহিত সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। পরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা হলেও সোমবার পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এদিকে নিহত শাকিলের পরিবারের অভিযোগ, মামলার তদন্তে পুলিশ শুরু থেকেই চরম গাফিলতি করেছে। শাকিলের বাবা রবিউল মিস্ত্রি জানান, হামলার পর থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে এজাহার থেকে এক প্রবাসীর নাম কেটে দেওয়া হয়। এছাড়া এমপির ছেলেকে গ্রেপ্তার করা ছাড়া পুলিশ অন্য কোনো আসামিকে ধরতে পারেনি।
জীবদ্দশায় গত ২০ এপ্রিল নিজের ফেসবুকে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন নিহত শাকিল। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তাকে হত্যার জন্য একটি চক্র বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করছে এবং এ বিষয়ে তিনি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাকে রক্ষা করতে পারেনি এবং মৃত্যুর পরও অপরাধীদের গ্রেফতারে উদাসীনতা দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার বাবা। তিনি ছেলে হত্যার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম জানিয়েছেন, জনস্বার্থেই গুরুদাসপুর থানার ওসি আবদুল হান্নানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।