আরিফুল ইসলাম রনক, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে চাঞ্চল্যকর হালিমা বেগম (৬৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। সম্পত্তি, গবাদিপশু ও স্বর্ণালংকারের লোভে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই ও ভাবিসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ধামইরহাটের ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের পাশের ধানখেত থেকে নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যক্তা হালিমা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে মরদেহটি পাওয়া যায়। এ সময় তাঁর কানের লতি কাটা ও ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় সেদিনই ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল ইসলাম ও ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর গভীর রাতে প্রথমে নিহতের ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬) ও তাঁর স্ত্রী হোসনে আরাকে (৫০) গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধামইরহাটের বস্তাবর গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩৯), এবং ছিলিমপুর গ্রামের হামিদুর রহমান (৫৫) ও মোশারফ হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। নিহত হালিমা বেগম প্রায় ২০ বছর ধরে ছোট ভাই মজনুর বাড়ির পেছনে টিনের ঘরে একা বসবাস করতেন এবং গবাদিপশু পালন ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সঞ্চিত টাকা বড় ভাইয়ের ছেলের কাছে রাখায় ছোট ভাই ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে হালিমার বিরোধ ছিল। এছাড়া হালিমার গবাদিপশু এবং কানের স্বর্ণের দুলের প্রতি অভিযুক্তদের লোভ ছিল। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় রবিউলের সঙ্গে এবং অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গেও পূর্ববিরোধ ছিল হালিমার।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামিদুর রহমান হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বাইরে আনেন। পরে অভিযুক্তরা তাঁর মুখ চেপে ধরে খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যান। সেখানে রশি দিয়ে হাত বেঁধে এবং ওড়না পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর কানের দুল নেওয়ার জন্য তাঁর কানের লতি কেটে ফেলা হয়।
পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রশি ও ওড়না উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি লুট হওয়া কানের দুলের একটি মজনুর কাছ থেকে এবং অপরটি হামিদুরের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।