বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

ছাত্রদল নেতার হুমকিতে প্রভোস্টের পদত্যাগ, চবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ Time View
21

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টকে হুমকি দেওয়া এবং হলে অবৈধভাবে সিট দখলের অপচেষ্টার অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী হল ও এফ রহমান হল প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মসজিদ হয়ে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে মিছিলটি শেষ হয়।

মিছিলে ‘হল দখলের রাজনীতি চলবে না’, ‘সিট দখলের রাজনীতি চলবে না’, ‘দখলবাজির রাজনীতি চলবে না’ মাথা আছে গিলু নাই করে শুধু চান্দা,লেখা নাই পড়া নেই করে শুধু ধান্দা সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশে চবি ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টনের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিট দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ক্যাম্পাসে অছাত্রদের অবস্থানেরও প্রতিবাদ জানান তারা।

চবি ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, “হলের প্রভোস্টের সঙ্গে অছাত্রকে সিট দেওয়ার বিষয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করা সাবেক শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়ানোর অভিযোগও তিনি তোলেন।”

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি কিংবা সিট দখলের রাজনীতি মেনে নেবে না। শিক্ষকদের অসম্মান বা হেনস্তার ঘটনাও প্রতিহত করা হবে।”

ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব বলেন, “হলের সিট বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবের পরিবর্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিট বণ্টনের দাবি জানান তিনি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ক্যাম্পাসে আবারও টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্টকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগেরও প্রতিবাদ জানান তিনি।”

চবি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি হাবিবউল্লাহ খালেদ বলেন, অছাত্রদের হলে সিট দেওয়ার চেষ্টা এবং প্রভোস্টকে চাপ প্রয়োগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে মেধার ভিত্তিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের স্বার্থে পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে না। হল দখল বা ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করার কথাও জানান তিনি।

এদিকে সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান ও চবি ছাত্রদলের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমানের একটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রশিবিরের দাবি, ওই কথোপকথনে প্রভোস্টকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মান্নান পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি এসব বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত থাকুক। ছাত্র সংগঠনগুলো যেন সংঘর্ষে না জড়ায়। আমার পদত্যাগে কিছু আসে যায় না।”

এবিষয়ে আব্দুল্লাহ আল নোমানের বক্তব্য অনুযায়ী প্রোভোস্টের সাথে তার চার মিনিটের পূর্ণাঙ্গ কথোপকথনের মাত্র খণ্ডিত দুই মিনিট প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, এমফিলে ভর্তির সুযোগ থাকা ও উপ-উপাচার্যের সুপারিশপ্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থীর সিট এবং মেধার ভিত্তিতে বণ্টনের তথ্য জানতে চাওয়া কোনো হুমকি হতে পারে না। এছাড়া, শিক্ষার্থীকে বুঝিয়ে না বলে তার পরিবারকে তুলে কথা বলা এবং উপাচার্যকে উপেক্ষা করার বিষয়ে তিনি শিক্ষকের আচরণের সমালোচনা করেন।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়। তাই হলের সিট বণ্টন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com