চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে ৪ আগস্ট ছিল এক সন্ধিক্ষণ, যা মূলত তৎকালীন সরকারের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ কর্মসূচির ডাকে সেদিন রাজধানীসহ সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। সরকারের দমন-পীড়ন, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা এবং কারফিউ জারির পরও জনস্রোতকে থামানো যায়নি। রাজধানীর ফার্মগেটে শিক্ষার্থী গোলাম নাফিজের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রতিবাদী সমাবেশ পুরো পরিস্থিতিকে আরও বেগবান করে তোলে।
কেন্দ্রীয় নির্দেশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে রাজশাহী পরিণত হয়েছিল আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রে। রুয়েট ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও পেশাজীবীরা মিলে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। কাফনের কাপড় পরে এবং জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে নেমে আসা এই জনতা সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে অটল ছিল। শিক্ষকবৃন্দ এই আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান এবং এটিকে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে তালাইমারী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হলেও মনোবল ভাঙেনি কারও। বরং এই দিনটিকে ইতিহাসের দিন হিসেবে বিবেচনা করে আন্দোলনকারীরা চূড়ান্ত প্রস্তুতির বার্তা দেন। এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও সাহসের পথ ধরেই পরদিন ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। রাজশাহীসহ সারা দেশের এই সম্মিলিত অংশগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।