সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর জেলা
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের গজনী অবকাশ এলাকার বনরানী রিসোর্টে চ্যানেল আইয়ের ‘প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন’-এর চেয়ারম্যান এবং স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মুকিত মজুমদার বাবুকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব শেরপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এই সংবর্ধনা ও এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা স্মারক ও উপহার সামগ্রী প্রদানের পর একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুকিত মজুমদার বাবু শিশুদের ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ সচেতন করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পারিবারিকভাবে শিশুদের যেমন ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হয়, ঠিক একইভাবে প্রকৃতি রক্ষা ও পরিবেশের গুরুত্ব সম্পর্কেও শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
গারো পাহাড় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য এবং বন্যহাতি সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “শেরপুর সীমান্ত এলাকায় মহাবিপন্ন এশীয় প্রজাতির বন্যহাতি রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত আবশ্যক। হাতিকে তার স্বাভাবিক আবাসস্থলে থাকতে দিতে হবে, কোনোভাবেই তাদের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করা যাবে না এবং খাদ্যের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, অনর্থক হাতিকে উত্যক্ত বা আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”
দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও বেকারত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের বর্ধিত চাহিদা এবং বনের জমি সংকুচিত হওয়ার কারণে বনভূমিতে বসতি স্থাপন বাড়ছে। এর ফলে বন্যহাতিসহ সামগ্রিক জীববৈচিত্র্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও লেখক জ্যোতি পোদ্দারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—সমন্বয়ক সাংবাদিক হাকিম বাবুল, গ্রীন ভয়েস শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক রফিক মজিদ, প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের উপদেষ্টা শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ও এস এম আবু হান্নান, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান, নারী উদ্যোক্তা নাহিদ রহমান জুলি, ফজিলা আক্তার শিল্পী, উম্মে কুলসুম রত্না এবং চিত্রশিল্পী মোবারক হোসেন প্রমুখ।