জাহিদ হাসান জীবন, সুন্দরগঞ্জ (গaiবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চারের সিংগীজানী এলাকায় এই পরিদর্শনে গিয়ে তারা ভাঙনকবলিত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্দশা শোনেন।
পরিদর্শন শেষে ভাঙনের শিকার অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্য থেকে ৩০ পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল এবং বাকি ৭০ পরিবারকে শুকনা খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তার করাল গ্রাসে ইতিমধ্যে ওই এলাকায় শতাধিক বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে কিংবা পানির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পাশাপাশি গাছপালা, রাস্তাঘাট ও আবাদি জমিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও অনেক ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি জানান, ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিকভাবে শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি ইতোমধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত সহযোগিতার আশ্বাস মিলেছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মো. শহিদুল ইসলাম মঞ্জু, কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া, ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।