বিরোধী রাজনৈতিক জোটের উদ্যোগে রাজধানী ঢাকা থেকে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি দীর্ঘ লংমার্চ কর্মসূচি সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকট নিরসন এবং গণভোটের গণরায় যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি দাবি সামনে রেখে এই বিশাল রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই লংমার্চ সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ ভালো রকম আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই লংমার্চের মূল অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল ঢাকার ব্যস্ততম শাপলা চত্বর এলাকা থেকে এবং এর সমাপনী হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে। এই দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাপথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও জনবহুল মোড়ে একাধিক বড় জনসভা এবং সংক্ষিপ্ত পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এসব পথসভায় বিরোধী জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ কর্মী ও সমর্থকদের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
পথসভাগুলোতে বক্তারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ লাঘবে তাদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হলে বর্তমান প্রশাসনের অবিলম্বে পদত্যাগ করা প্রয়োজন। এই দাবিগুলোর পক্ষে জনমত গঠনে লংমার্চের পথপরিক্রমা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বলে জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই লংমার্চ কেবল কয়েকটি সাধারণ দাবি আদায়ের আন্দোলন নয়, বরং এর মাধ্যমে বিরোধী জোট একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত প্রদান করেছে। দেশজুড়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অসন্তোষকে একত্রিত করে তারা আগামী দিনে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সার্বিকভাবে, এই কর্মসূচি দেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে নতুন এক উত্তাপ ছড়াচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ক্ষমতার সমীকরণকে নতুন করে প্রভাবিত করতে পারে।