ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরে গুরুদাসপুর উপজেলার ঝাওপাড়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই পুরোনো ঘর বিক্রি, নিয়োগ বাণিজ্য, এবং জমি লিজ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁকে কারণ দর্শানোর (শোবিজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২২ জুলাই ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনির নানা বিধিবহির্ভূত কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষক-কর্মচারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফাহমিদা আফরোজ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতারকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন ইউএনও।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত জানুয়ারি মাসে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ৯০ ফুট সেমিপাকা ভবন, ৪৫ ফুট টিনশেড ঘর এবং অন্য একটি ভবনের অংশবিশেষ মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন আব্দুল গনি। যদিও তিনি পূর্ববর্তী কমিটির রেজুলেশন থাকার দাবি করেছেন, তবে তা দেখাতে পারেননি। এ ছাড়াও ৩৭ শতাংশ ফসলি জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় কট রাখা, সোয়া ৮ শতাংশ লিচু বাগান ৩৮ হাজার টাকায় লিজ দেওয়া এবং মাঠের অন্যান্য জমির লিজের টাকার কোনো হিসাব তিনি দিতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৫ সালের নিয়োগেও ত্রুটি ছিল। একক ব্যক্তির অনুকূলে একসঙ্গে দুটি পদে নিয়োগ পাওয়ার বিধান না থাকলেও তিনি দুটি তৃতীয় বিভাগ নিয়ে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন। পাশাপাশি, বিধি লঙ্ঘন করে কনিষ্ঠ শিক্ষককে জ্যেষ্ঠ পদে পদায়ন এবং শরীরচর্চা শিক্ষক পদে অনিয়মিতভাবে বেতন পাইয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন তিনি। মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা জানান, অ্যাডহক কমিটির দায়িত্বে থাকাকালীন ভবন বিক্রি বা জমি লিজ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি দাবি করেন, তিনি যা করেছেন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই করেছেন এবং নতুন ভবন পাওয়ার পরই পুরোনো ভবন ভাঙা হয়েছে। তবে জমি লিজ বা ভবন বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার জানান, সরজমিন পরিদর্শনে ভারপ্রাপ্ত সুপারের আর্থিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিধি লঙ্ঘন করায় অভিযুক্ত প্রধানকে শোকজ করা হয়েছে এবং আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।