মানুষের শরীরের গঠন অনুযায়ী কৈশোরকাল শেষ হওয়ার আগেই প্রায় সব স্থায়ী দাঁত গজিয়ে যায়। তবে মুখের একেবারে পেছনের অংশটিতে কয়েকটি বিশেষ দাঁত সবার শেষে ওঠে, যা সাধারণত মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার প্রাথমিক ধাপগুলোতে দেখা যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে থার্ড মোলার বা তৃতীয় পেষক দাঁত বলা হলেও সাধারণ মানুষের কাছে এগুলো আক্কেল দাঁত হিসেবেই সমধিক পরিচিত। অন্যান্য দাঁতের মতো এগুলো শৈশবে না উঠে এত দেরিতে ওঠার পেছনে নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক ও জৈবিক কারণ রয়েছে।
আমাদের চোয়ালের হাড় নির্দিষ্ট একটি গতিতে এবং বয়সে বৃদ্ধি পায়। শৈশব বা কৈশোরে মানব চোয়ালের আকার এত বড় থাকে না যাতে এই অতিরিক্ত পেছনের দাঁতগুলোর জায়গা হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে যখন চোয়ালের হাড় পুরোপুরি বিকশিত হয় এবং পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়, তখনই মূলত এই দাঁতগুলো গজানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। সাধারণত সতেরো থেকে একুশ বছর বয়সের মধ্যে এই দাঁত ওঠার বিষয়টি বেশি দেখা যায়, তবে ক্ষেত্রবিশেষে এই বয়সসীমার কিছু হেরফেরও হতে পারে।
আক্কেল দাঁত ওঠার সময় তীব্র ব্যথা অনুভব করা একটি অত্যন্ত সাধারণ শারীরিক সমস্যা। এর প্রধান কারণ হলো মুখগহ্বরে বা চোয়ালে এই দাঁতের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব। যখন পূর্ণাঙ্গ আকারের একটি দাঁত ছোট জায়গায় গজানোর চেষ্টা করে, তখন তা আশেপাশের দাঁতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং মাড়ি ভেদ করে বের হতে গিয়ে প্রদাহ তৈরি করে। এছাড়া অনেক সময় এই দাঁতগুলো বাঁকাভাবে বা আংশfected অবস্থায় ওঠে, যা মাড়ির ভেতরে নানা ধরনের জটিলতা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে।
দাঁত ওঠার এই তীব্র ব্যথা মানেই যে আক্কেল দাঁতটি সবসময় অস্ত্রোপচার করে ফেলে দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। ডেন্টিস্ট বা দন্ত চিকিৎসকরা প্রথমে পরীক্ষা করে দেখেন যে দাঁতটি সঠিকভাবে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে কি না বা এর কারণে আশপাশের অন্য দাঁতের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না। যদি ব্যথা সাময়িক হয় এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিরাময়যোগ্য হয়, তবে চিকিৎসকরা ওষুধ বা মাড়ির ছোটখাটো চিকিৎসার মাধ্যমেই তা সমাধানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে জটিলতা বেশি হলে এবং বারবার সংক্রমণ দেখা দিলে এটি ফেলে দেওয়াই শ্রেয়।