ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
পরিবারের অবহেলা আর আর্থিক সংকটে থাকা নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর গ্রামের ১৮০ জন অসহায় প্রবীণের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছে ‘প্রবীণ সেবাকেন্দ্র’। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কেন্দ্রটি বয়স্কদের আজীবন ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করছে। এটি কোনো বৃদ্ধাশ্রম নয়, বরং প্রবীণদের সুচিকিৎসার একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান।
১০ কাঠা জমির ওপর নির্মিত একতলা এই সেবাকেন্দ্রে রয়েছে ১১টি কক্ষ। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (শুক্রবার বাদে) খোলা থাকা এই কেন্দ্র থেকে মাত্র ৫০ টাকা ফি দিয়ে সাধারণ রোগীরাও চিকিৎসা এবং থেরাপি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। তবে নিবন্ধিত ১৮০ জন প্রবীণ রোগীর জন্য চিকিৎসা ও ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এখানে ডায়াবেটিস পরীক্ষা, প্রেশার মাপা এবং ফিজিওথেরাপির সুব্যবস্থা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ও সাবেক স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, “মায়ের বার্ধক্যজনিত কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখার পরই সুবিধাবঞ্চিত প্রবীণদের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। ২০২০ সালে এই কেন্দ্রটি চালুর পর বুঝতে পারি, শুধু ক্যাম্প করে স্থায়ী সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই গরিব প্রবীণদের নিবন্ধন করে আজীবন চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের লক্ষ্য, বার্ধক্যে যেন কোনো বাবা-মা চিকিৎসাবঞ্চিত না হন।”
সেবাকেন্দ্রের খুবজীপুর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ সরকার জানান, এখানকার বেশিরভাগ প্রবীণই ষাটোর্ধ্ব, আবার অনেকের বয়স শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে। অনেকে হেঁটে আসতে না পারলে তাদের বাড়িতে গিয়েও সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতি মাসে ঢাকায় নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে ক্যাম্প পরিচালনা করে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
নিয়মিত থেরাপি নিতে আসা মালা খাতুন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মাজা ব্যথায় ভুগছিলাম। অনেক জায়গায় চিকিৎসা করেও ভালো হয়নি। গত এক মাস ধরে এই কেন্দ্রে ৫০ টাকা ফি দিয়ে থেরাপি নিয়ে এখন অনেক সুস্থ বোধ করছি। এখানকার সেবার মান সত্যিই প্রশংসনীয়।”
উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হাসানুজ্জামান জানান, নিবন্ধিত প্রবীণ রোগীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়, যা তাদের বার্ধক্য জীবনকে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।