বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলার বিচারকাজ বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। এসব মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দিতে গোপন বন্দিশালায় অমানবিক নির্যাতন এবং তুলে নিয়ে গুম করার মতো ভয়াবহ সব বর্ণনা উঠে আসছে। বিশেষ করে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া এখন গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা অভিযোগ করছেন, রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সব গুমের মামলার তদন্ত সমান গুরুত্বে হওয়া প্রয়োজন। এদিকে, গুমের ঘটনা তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিশনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৫ শতাধিক গুমের অভিযোগ যাচাই করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫১ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো অজানা। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজদের নিয়ে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে এবং আগামী ৬ সেপ্টেম্বর গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মামলার আলামত সংগ্রহ ও ভারতীয় আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, পৃথক তিন শতাধিক অভিযোগকে সমন্বিতভাবে বিচারের আওতায় আনতে পারলে মামলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুমের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।