আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেছেন যে, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ বা গোপন বন্দিশালার অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, বিগত দেড় দশকে সংঘটিত প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত শক্তিশালী ব্যক্তিদেরও আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রপতির মতে, এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কেবল ব্যক্তির জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে।
তদন্ত কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অন্তত ১,৫৬৯টি গুমের ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে, যা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনের লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের পরিকল্পিত অপতৎপরতার প্রমাণ দেয়। এ প্রেক্ষাপটে সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপনসহ আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে গুম সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূলে কাজ করছে। রাষ্ট্রপ্রধান জানান, অপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা ও তাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি এমন একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন যেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে থাকবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং আইনের শাসন।