বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন
Title :
ইরানের ৫ ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে পাল্টা আঘাত ১৯২৭ -২০২৭: গৌরীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হতে পারে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ২৭ শিক্ষককে ডেকে এসএসসির ফল পুনঃযাচাই, ফল পরিবর্তনের অভিযোগ নলকূপ বসানোর স্থানে মিলল গ্যাসের সন্ধান ইসরায়েলের পণ্যে নিষেধাজ্ঞায় একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ ১২ দেশ চীনে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে ইবি শিক্ষার্থীর আকুতি নাটোরে চোরাই স্বর্ণ ও অবৈধ বন্ধকি ব্যবসা রোধে পুলিশের বিশেষ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এলিট ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাতে ২৭ শিক্ষককে ডেকে এসএসসির ফল পুনঃযাচাই, ফল পরিবর্তনের অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ Time View
3

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নিয়মবহির্ভূতভাবে গভীর রাতে কিছু শিক্ষককে বোর্ডে ডেকে এনে উত্তরপত্রগুলো পুনরায় যাচাই করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রকাশিত ফলাফলের সঠিকতা এবং শিক্ষা বোর্ডের মূল্যায়ন পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সূত্রপাত হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ধরনের সংশয় ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মে বহু শিক্ষার্থী খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্রগুলো পুনরায় মূল্যায়ন করে বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ফলাফল প্রস্তুত করেছিল। কিন্তু সেই দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও গত মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে হঠাৎ করে ২৭ জন শিক্ষককে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষা বোর্ডে তলব করা হয়। পরবর্তীতে ওই শিক্ষকদের মাধ্যমে ইংরেজি ও গণিতসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করানো হয় এবং এই সুযোগে ফলাফল পরিবর্তনের কাজও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গভীর রাতে আকস্মিকভাবে শিক্ষক ডেকে এনে উত্তরপত্র পুনরায় যাচাই করানোর এই ঘটনা নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে যে, নির্ধারিত পুনঃনিরীক্ষণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর হঠাৎ কেন আবার খাতা দেখার প্রয়োজন দেখা দিল এবং এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না। এছাড়া, অফিস সময়ের বাইরে রাতের আঁধারে এই ধরনের গোপনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এই সমস্ত অভিযোগ ও বিতর্কের বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, কোনো ধরনের ফল পরিবর্তনের অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের রাতে ডাকা হয়নি, বরং পুনঃনিরীক্ষণের পর কিছু উত্তরপত্রে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ায় তা যাচাই করা হয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হওয়ায় ফলাফল শতভাগ নির্ভুল নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাজ শেষ করার তাগিদ থাকায় শিক্ষকদের রাতের বেলা বোর্ডে আনা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী পরীক্ষার ফলাফলের মতো অতি সংবেদনশীল বিষয়ে যেকোনো ধরনের সংশোধন বা পুনঃযাচাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা আবশ্যক। বোর্ড কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার কথা বললেও এই ধরনের রাতের কার্যক্রম পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে সম্পূর্ণ নীতিমালা মেনে এবং আরও প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ পন্থায় বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com